রাজা সরকারের কবিতা ও জীবন নিয়ে আলোচনা

advertisement

নেত্রকোণা:ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশী কবি ও লেখক “রাজা সরকারের” জীবন ও কবিতা নিয়ে এপার বাংলা ও ওপার বাংলার কবিদের নিয়ে এক মনোজ্ঞ আলোচনা ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার(২৭ এপ্রিল)সন্ধ্যায় নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের আয়োজনে জেলা পাবলিক লাইব্রেরীতে তা অনুষ্ঠিত হয়।

নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি সাইফুল্লাহ এমরানের উদ্ধোধনী ঘোষণার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।শুরুতেই রাজা সরকারের কবিতা একে একে পাঠ করেন, মালা চৌধুরী,শ্রাবনী,হাবিবা,কবি স্বপন পাল,স্বর্ণালী আক্তার,তাসফিয়া তাহসিন,মুশফিক মাসুদ প্রমুখ।

এ সময় ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে কলকাতা থেকে যুক্ত হন কবি রাজা সরকার।প্রথমবারের মত তাকে নিয়ে এমন একটি আয়োজন নিজ জন্মজেলায় আয়োজিত হতে দেখে আপ্লুত হন তিনি। আয়োজক দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এসময় ।স্মৃতিচারণের পাশাপাশি স্বরোচিত কবিতা পাঠ করেন এপার বাংলার দর্শক শ্রোতাদের উদ্দ্যেশে। ওপার বাংলার আরেক স্বনামধন্য কবি কৃষ্ণপ্রিয় ভট্রাচার্য্য বলেন, রাজা সরকারকে এপার বাংলার মানুষ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যে সম্মান দিয়েছে তা ভারতীয়রাও দিতে পারেনি এতদিন। তিনি রাজা সরকার কে “হিংস্র কবি”র বিশেষণে ভূষিত করেন।

কবি শিমুল মিলকী রাজা সরকারের কবিতা ও জীবন নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন কবি স্বরোজ মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা উদীচী’র সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান,সাহিত্য সমাজের সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী,কবি হারাধন সাহা,ছড়াকার সঞ্জয় সরকার,কবি এনামূল হক পলাশ, কবি আব্দুর রাজ্জাক,কবি তানভীর জাহান চৌধুরী প্রমুখ।

কবি রাজা সরকার ১৯৫২ সনের ১৫ই মার্চ
নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতার নাম নরেন্দ্র সরকার ও মাতা হেমপ্রভা সরকার। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ।গ্রামের পড়া শেষ করে নেত্রকোণা জেলা শহরের দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে বছর দেড়েকের মত
পড়াশোনা করেন।তারপর ১৯৬৪ সালে পরিবারের এক অংশের সঙ্গে বালক বয়সে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের এক রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেন।শুরু হয় তার শরণার্থী জীবন।

তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ “প্রিয় আততায়ীর প্রতি”(১৯৮২),”বসন্ত সন্ধ্যা ও আত্মগোপনকারী”(১৯৮৭)”দিশা নক্ষত্রের কাল”(১৯৯৬),”একা এক অদৃশ্য”(২০০৯)। আত্মজীবনী মূলক গল্প “আঁতুড়ঘর”(২০১৩),”ফিরে দেখা এক জন্মকথা”(২০১৮), এবং অতি সম্প্রতি বেরিয়েছে তার “কবিতাসমগ্র”।

ভাগাভাগি নামক কবিতায় তিনি লিখেছেন:আকাশকে ভাগ হতে দেখলাম।মেঘ বা পাখিরাও কি সেই ভাগ মেনে নিল!আসলে আকাশ ভাগ হওয়ার পরপরই দেখলাম এই জগৎ সংসার সবটাই ভাগ হয়ে গেল।একটি একিভূত জিনিস ভাগ হলে পুষ্পবৃষ্টি ও রক্তপাত অনিবার্য। কিন্তু কোন রক্তপাত হলো না।চুক্তিপত্রের সাদাপাতায় শুধু জলছাপের মত সকল বর্ণমালা ডুবে গেল জলে।

আয়োজকদের অন্যতম কবি শিমুল মিলকী জানান,”রাজা সরকার কে এপার বাংলার মানুষের কাছে পরিচিত ও তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য।

You might also like

advertisement