বাবার বিচার চাইতে থানায় এসেছিল

advertisement

উখিয়া থানার নিচতলার বারান্দায় দুইজন স্কুল ছাত্র-ছাত্রীকে চোখে পড়ে। থানায় কেন এসেছ জানতে চাইলে, উখিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী হুমাইরা আকতার ও তার ছোট ভাই উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র হুমায়ুন কবির একটু ইতস্তত বোধ করে।

পরে তারা জানায়, তাদের বাড়ি উখিয়া সদর মালভিটা পাড়া গ্রামে। বাবা মো. আউয়াল (২৫) একজন মাদকাসক্ত। বাবার অত্যাচারে মা গত দুই বছর আগে চলে গেছেন। তারা যে ঘরে থাকতো সেই ঘরটিও বাবা ভেঙ্গে ফেলেছে। বয়োবৃদ্ধ দাদা দাদী আশ্রয় না দিলে তাদেরকে ভিক্ষা করে জীবন কাটাতে হতো। বাবার মদ্যপানে বাধা দেওয়ায় বয়োবৃদ্ধ দাদা দাদীকে খুব মেরেছে। দাদী নছিমা খাতুন এসব অভিযোগ নিশ্চিত করে বলেন, আউয়াল প্রতিদিন গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় আসে। এসে মা হারা নাতনী হুমায়রা ও নাতী হুমায়ুনকে ঘুম থেকে তুলে বিভিন্ন অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে। তাই তারা থানার আশ্রয় নিয়েছে মাদকাসক্ত বাবার অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে।

হুমায়রা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, তার বয়োবৃদ্ধ দাদা ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবন জীবিকার পাশাপাশি তাদের লেখা পড়ার খরচ জোগান দিচ্ছেন। এজন্য দাদাকে প্রায়ই বাবা অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও মারধর করে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, মাদক সেবী আউয়ালকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে দুই বছরের সাজা চাওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ফখরুল ইসলাম মো. আউয়ালকে দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিশু দুইটির জবানবন্দি গ্রহণ করেছিলেন।

হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কাশেম জানান, মাদকাসক্তির কারণে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, থানায় প্রতিনিয়ত যে সমস্ত অভিযোগ আসে তার দুই তৃতীয়াংশ অভিযোগ মাদক সম্পৃক্ততা।

You might also like

advertisement