প্রসঙ্গঃ শাস্তি এবং

এম এ জলিল রানা

advertisement

সব অপরাধীর শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে কেবলমাত্র সরকারকেই এর কোন বিকল্প নাই। কারণ সরকার করলে দোষ নাই আর পাবলিক করলে রক্ষা নাই। বিষয়টি এরকম দেশ স্বাধীনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বহু অন্যায়, অপরাধ, অনিয়ম আর নানা ঘটনার প্রবাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ এ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিরোধী শত্রু ভাবাপূর্ণ আচরনের ফলে রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব তৈরি হয়েছে সেই আদিকাল থেকে।

যার ফলশ্রুতিতে রাজনিতিবীদদের মধ্যে তথা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে জনস্বার্থে, দেশের স্বার্থে এবং জাতীয় ইসুসহ সব কর্মকান্ডেই সমন্বয়হীনতা। আর এসবের কারণে দেশে এখন প্রতিহিংসার রাজনিতি বিরাজ করছে। ক্ষমতার পালা বদলে ক্ষমতাসীন বিরোধী হয়-আরাব বিরোধী দল ক্ষমতাসীন হয়ে আসে। এ-রকম ক্ষমতার ভাঙ্গাগড়া খেলতে খেলতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে কম-বেশি ক্ষমতার অপব্যবহার, দখল-বাজি, ডাঙ্গা-বাজি, গুম-খুনসহ নানা সন্ত্রসী কর্মকান্ডের জন্ম হয়েছে। এক সময় একটি কথার খুব প্রচলন ছিল কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী কোন রকম বড় ধরনের অপরাধে জরিয়ে পড়লে দলের পক্ষ থেকে বলা হত অপরাধী অথবা সন্ত্রাসী কোন দলের নয় এরা দেশের শত্রু।

অন্যদিকে যদি একটু ফিরে দেখি কুলি, শ্রমিক থেকে শুরু করে উর্দ্ধতন আমলাতন্ত্র পর্যন্ত আসলেই কেউ রাজনৈতিক গন্ডির বাহিরে নয়, নিরপেক্ষ লোক খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। সুতরাং অপরাধী যেই হোক না কেন সে অবশ্যই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য-তো বটেই। তবে এখন আর একথা প্রচলন খুব বেশি দৃশ্যমান নয়। যে কোন ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরপরই রাজনৈতিক দলের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্যে বেড়িয়ে আসে সে আসলে কে? যেহুতু সকল শ্রেণী পেশার মানুষ কোন না কোন রাজনৈতিক দল বা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সেহেতু প্রত্যেক নেতা-কর্মী নিজ নিজ এলাকয় দলীয় বা সাংগঠনিক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে দাফিয়ে বেড়ায়।

সাংগঠনিক কর্মকান্ডের বিভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করে, বিপরীতে তৈরী হয় অনেক অসন্তোশ ক্ষোভ এবং লোভ-লালসা-এগুলোকে ব্যক্তি স্বার্থে চরিতার্থ করতে গিয়ে বিষয়গুলি এক সময় শত্রুতায় পর্যবশিত হয় ফলে পারিবারিক, সামাজিক, স্থানীয় এবং জাতীয়ভাবে নানা অন্যায়, অপরাধ এবং অপকর্ম সংগঠিত হতে থাকে। ওই সব অন্যায় অপরাধের শাস্তি আগে ও পরে হয়ে থাকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও হয়ে থাকে ফলে ন্যায়-বিচার এর স্বার্থে অনেক প্রতিবাদ ও হয়ে থাকে। মজার বিষয় হলো বর্তমানে সময়ে রাজনৈতিক দলে ভিন্ন মাত্রার একটি নিয়ম চালু রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতাসীন বিরোধী পক্ষের উপর বিচারে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু ও হয়ে থাকে। যে কোন ধরনের ঘটনা ঘটলে তার প্রতিবাদে ন্যায়-বিচারের স্বার্থে দেশ ব্যাপী আলোচনা-সমালোচনা ও মানববন্ধন হয়ে থাকে।

এছাড়াও একই অধিকার আদায়ের লক্ষে মিডিয়াতে টক-শো অব্যহত থাকে। গণমাধ্যম কর্মীরাও ব্যস্ত হয়ে পড়ে সংবাদ সংগ্রহে মুল কথা কেউ প্রতিবাদ করুক অথবা না করুক সরকার আইনী প্রক্রিয়ায় সকল অপরাধীর দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যথাযথ বিচার কার্য সম্পন্ন করলেই যতেষ্ঠ। সরকার পক্ষ থেকে সঠিক আইনী পদক্ষেপ বা জাতীয় স্বার্থে দেশের শৃঙ্খলার্থে যে কোনো উদ্যেগ গ্রহন করা হলে সেক্ষেত্রে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কারণ আমরা বিগত দিনে দেখেছি জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার, স্বাধীনতা বিরোধীদের শাস্তি কার্যকর, বাংলা ভাই/শায়খ আব্দুর রহমান এবং আতাউর রহমান সানিদের দন্ড নিশ্চিত করন সহ বর্তমান সময়ে সরকারের মহতী উদ্যেগ দেশে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যহত রয়েছে।

ইতোমধ্যে কয়েক-শ মাদক ব্যবসায়ী কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে আর আত্মসমার্পন ও করেছে অনেকে ফলে দেশে সন্ত্রাস ও চোরাকারবারীদের দাপট কমেছে অনেকাংশে। বর্তমানে দেশে আলোচিত একটি বিষয় প্রত্যেকটি নাগরিকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে জাতি আজ হতাশাগ্রস্ত সেটি হল ধর্ষন। গত এক থেকে ৮-মে পর্যন্ত দেশে ৪১ জন শিশু ধর্ষনের স্বীকার হয়েছে। ধর্ষনের অবস্থা এখন মহামারী রুপ নিয়েছে, মাদক ও জঙ্গি বিরোধী অভিজানের মতোই চিহ্নিত ধর্ষকদের বিচারের অপেক্ষায় না থেকে এদেরকেও সরাসরি ক্রোসঃফায়ার এর আওতায় আনা হোক যা কেবল বর্তমান সরকারের দ্বারাই সম্ভব। কারণ সাধারন মানুষ বাস্তবে প্রতিবাদ করতে গেলেই নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতে হয় অনেক ক্ষেত্রে জীবনও চলে যায়। এজন্যই বলা হয়েছে সরকার করলে দোষ নাই আর পাবলিক করলে রক্ষা নাই।

You might also like

advertisement