শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভর্তি বান্যিজ্যের অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ

advertisement

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি নিয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঘুষ বান্যিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একটি মহল উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে। সুশিল সমাজের দাবী তদন্ত করে এসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করাতে হলে সরকারী নিয়মকানুন অনুযায়ী বিধিমোতাবেক করতে হয়। গোবিন্দগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্ম্মণ। তার অনুমতি ছাড়া ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করাতে পারেন না। মাঝ পথে এ বিদ্যালয়ে অবৈধ পন্থায় ঘুষ বান্যিজ্যের মাধ্যমে কি ভাবে এসব ছাত্র ভর্তি করানো হয়েছে, তা এখন সর্ব মহলে আলোচিত হচ্ছে। ঘুষ বান্যিজ্যের মাধ্যমে যে সব ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করিয়েছে বলে একটি মহল অভিযোগ করেছে, তারা হলেন, নাকাইহাট ইউনিয়নের পগইল গ্রামের মাহবুব আকন্দের পুত্র ৮ম শ্রেণীর ছাত্র মাফিন খন্দকার শাখা পদ্ম, শ্রেণী রোল নং-৮৫, পরিক্ষা কক্ষ নং-১২৭। ৭ম শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়েছে। সে পান্থা পাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল, শাখা-ক, রোল নং-৪২, এ ছাত্র ২০১৭ সালে পিইসি পাশ করেছে বলে একটি সুত্রে জানায়। এ ছাড়া ওই শাখায় ৮৩ থেকে ৮৪ রোল নং-ছাত্র আজাদুল ইসলামের পুত্র মো: রাব্বী ও অনিল চন্দ্র শাহার পুত্র শ্রী বিজয় সাহা নতুন ভর্তি হয়েছে।

গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জরিপপুর (মৃধাপাড়া) গ্রামের নবাব শেখের মেয়ে মোছা: নোভা খাতুন, শ্রেণী ৯ম, শাখা- মানবিক ঙ, রোল নং-৪৬, পরিক্ষা কক্ষ নং-৩০২, এ মেয়েটি পারগয়ড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিবাহিতা ছাত্রী। পৌরসভার বুজরুক বোয়ালিয়া মহল্লার শাহীনুর জামানের পুত্র এবিএম ইমরোজ জামান বর্তমান শ্রেণী ৭ম, শাখা-গ, রোল নং- ৯০, পরিক্ষা কক্ষ নং-১০৩। মাইশা বর্তমান শ্রেণী ৯ম, শাখা-ঙ, বিভাগ বিজ্ঞান, রোল নং-৫২, পরিক্ষা কক্ষ নং-৩০১, নাকাইহাট শীতল গ্রামের মৃত-আবুল হোসেন আকন্দের পুত্র, মোঃ মুরছালিন আকন্দ বর্তমান রোল নং-৯ম, শাখা- ক, রোল নং-১২১, পরিক্ষার কক্ষ নং-১১৯, প্রাক্তন স্কুলের নাম আহম্মেদ শাহ শিশু নিকেতন। এ ছাড়াও এই শাখায় ১২২ রোল থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছে। হিরক পাড়ার আ: মতিন সরকারের পুত্র আলিফ মুনতাকির মুগ্ধ, বর্তমান শ্রেণী ৮ম, শাখা-ঘ, রোল নং-৮৫। সতিতলা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র আব্দুল অজিজ বর্তমান শ্রেণী ৯ম, শাখা-খ, রোল নং ১২২, এ ছাড়াও এই শাখায় ১২৩ থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন ভর্তি করানো হয়েছে বলে সুত্রটি দাবী করছে। এসব ছাত্র/ছাত্রী পরিক্ষা দিতে এলে নিয়মিত ছাত্রদের নজরে আসলে, তাদের জিজ্ঞাসবাদ করলে অনেকেই পরিক্ষা কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যায়।

আর এসব অবৈধ পন্থায় ২০ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা নিয়ে ছাত্র ভর্তির সাথে জড়িয়ে আছে গোবিন্দগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গণিত বিভাগের শিক্ষক শ্রী শিশির। তাকে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রধান শিক্ষককের অনুমতি ছাড়া কিছুই করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক মোকারম হোসেন রানার সাথে বিদ্যালয়ে তার অফিস রুমে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শিক্ষকদের মধ্যে থেকে শিক্ষক আশরাফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি নিয়ে সর্ব মহলে এখন কৌতহল সৃস্টি হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্ম্মণ বলেন আমার কাছে ছাত্র ভর্তি বিষয়ে অনেকে অভিযোগ করেছে। সেই আলোকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

You might also like

advertisement