অফিস টাইমে যাত্রীবাহী বাসে জনগণের দুর্ভোগ

advertisement

কয়েকটা দিন যেতে না যেতেই দেশে একটা না একটা ইস্যু শুরু হয়। আজ বাস চালকদের অবরোধ তো কাল শ্রমিকদের অবরোধ। আর এই অবরোধে দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ জনগণ। গেল দুই দিন আগেও রিক্সাচালকরা সব গাড়ি বন্ধ করে রাস্তা আটকে ধর্মঘট করে যার কারণে সাধারণ মানুষেরা নানারকম পরিস্থিতির শিকার হন। চলার পথে হেনস্থা হন নানানভাবে৷

বাসা থেকে বের হলে কোন না কোনভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন জনগণ। অনেক সময় তারা নিরাপদে বাসায় ফিরবে কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে জনগণের আরেকটি দুর্ভোগ হলো অফিস টাইমে নানান কারণে রাস্তা আটকে থাকা। যার কারণে ঠিক সময়মত অফিসে পৌছাতে পারে না অনেকেই৷ প্রতিদিনই রাজধানীর কোথাও না কোথাও এমন হচ্ছে। চাকুরীজীবিরা সবচেয়ে বেশি হেনস্থার শিকার হন ট্রাফিক পুলিশদের কারণে। যাত্রীবাহি বাসে করে অফিসে যাওয়ার সময়ই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সিগনালে গাড়ি আটকান ট্রাফিক সার্জেন্ট কিংবা পুলিশ। এরকম অনেক অভিযোগই করে আসছেন অনেক জনগণ।

তাদের ভাষ্যমতে, শুধু অফিস টাইমেই ট্রাফিকরা কেন গাড়ি আটকিয়ে গাড়ির কাগজপত্র চেক করবে! সেটা অন্য সময়ও করা যায়। আর অনেক সময় গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না থাকলে বা চালকদের সঙ্গে কথায় না মিললে অনেক সময় ধরে গাড়ি আটকে রাখে। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে বেশিরভাগ মানুষই অফিসে পৌছাতে পারে না৷ আর যার কারণে অফিসের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।

রাজধানীতে এরকম অনেকেই বসবাস করেন যাদের বাসা অফিস থেকে অনেক দূরে। সেক্ষেত্রে বাসেই বেশিরভাগ চড়তে হয় তাদেরকে। অনেক সময় বিকল্প উপায়ে গেলেও যে রক্ষা পায় তা না। এরকম পরস্থিতিতে পড়তে হয় প্রায়ই। রাজধানীর গুলশান মোড়ে অনেকসময় কোন কারণ ছাড়াই কিছুক্ষণ সময়ের জন্য হলেও গাড়ী আটকে রাখতে দেখা যায় সিগনালের অযুহাতে। প্রায়ই দেখা যায় গাড়ি সিগনাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সু্যোগ থাকলেও ছাড়ছেন না ট্রাফিক সার্জেন্ট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকুরীজীবী বলেন, আমাকে প্রতিদিন বাড্ডা থেকে বাসে করে ফার্মগেট যেতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক সিগনাল আর সার্জেন্টদের কারণে আটকে থাকতে হয়। কিছু সার্জেন্ট আছেন যারা বাস চালকদের থেকে টাকা নেয়। অনেক সময় গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও কোন বাহানায় তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ধান্দা করে। আবার বাসের কনট্রাক্টদেরও দোষ আছে, তারা অনেক সময় ট্রাফিকদেরকে টাকা দেয় সিগনালের আগে গাড়ি দাড় করাতে যাতে করে তারা যাত্রী তুলতে পারে অনায়াসে। কিন্তু সময়মত অফিসে পৌছাতে না পারলে আমাদের চাকরী নিয়ে টান পড়ে অনেকসময়। কিছুদিন এমন হলেই তো আমরা সমস্যায় পড়ে যাই।

এছাড়াও রাজধানীর ফার্মগেটসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় একই পরিস্থিতি দেখা যায়। আর কিছু ট্রাফিক পুলিশদের কারণে প্রশ্ন উঠে সবার নামে। রাস্তায় যে কোন জায়গায় বাস কিংবা মোটর বাইক দাড় করিয়ে কাগজপত্র চেক করার নামে সময় নষ্ট করে। সব ঠিক থাকলেও টাকা না দিলে একটা মামলা ঠুকে দেয়। এমন অভিযোগ অনেক চালকের।

এ বিষয়ে এক ট্রাফিক পুলিশ জানান, ট্রাফিক আইন মেনেই গাড়ি চলতে হবে। আর কোন ত্রুটি দেখলেই আমরা সেটিকে আটকে চেক করি। অনেক সময় গাড়ির কাগজপত্র চেক করি। ঠিক থাকলে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর সকাল বেলা সবারই অফিস থাকে, সবাই অফিসে যায়। আমাদেরও সকালে ডিউটি শুরু হয়। আমরা আমাদের কাজটা ঠিকমত করার চেষ্টা করি। সবাই যদি ট্রাফিক আইন মেনে আমাদেরকে সহযোগীতা করে তাহলে আমরাও আমাদের কাজটা ঠিকমত করতে পারবো আর কারও দুর্ভোগেরও শিকার হতে হয় না। সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে সচেতন হয় তাহলেই সবকিছু ঠিক করা সম্ভব৷

You might also like

advertisement