রোগ সৃষ্টিতে তিন সিন্ডিকেট

এম.এ জলিল রানা

advertisement

লাল সবুজের দেশ আমার সোনার বাংলাদেশ। আয়তনের তুলনায় এদেশের জনংসখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায়- ১৭ কোটি এই জনসংখ্যাকে পুজি করে দেশ ব্যাপি গড়ে উঠেছে হাজারো প্রতিষ্ঠান কমদামি থেকে নামিদামি আর এনালগ থেকে ডিজিটাল।

সব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ উদ্দেশ্য উন্নত সেবার মান নিশ্চিত করনের মধ্য দিয়ে জনগণকে সঠিক সেবা প্রদান করা। কিন্তু মুলত সবি তার বিপরীত যদিও দেশে এখন অন্যায়-অপরাধের বহুমাত্রিক রুপরেখা চলমান তথাপ্রিয় সব অন্যায়-অনিয়ম ও অপরাধের গুরুত্ব সমানভাবে আরোপিত হয় না। আর সব অপরাধের শাস্তি ও সমান নয়। বর্তমানে দেশে অসংখ্য অপরাধী ঘিরে যে অপরাধ মাথা চাড়া দিয়েছে সেটি হল খাদ্যে ভেজাল, ওষুধে ভেজাল এবং মেয়াদ উত্তীর্ন ওষুধ যাকে বলে প্রাণঘাতি। ১ নম্বর সিন্ডিকেট রোগের জন্মদাতা: দেশে অসংখ্য নামি-দামী খাদ্য-দ্রব্য উৎপাদনকরী কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও শস্য থেকে বহুমাত্রিক খাবারের উপযোগি খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করে থাকেন।

এসব খাবার বাজারজাত করনের মধ্য দিয়ে গ্রাহকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে পত্র-পত্রিকা এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াতে আকর্ষনীয় ও চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে যাচ্ছে। এসব চটকদার বিজ্ঞাপনের খপ্পরে পরে আধুনিক যুগের মা-বাবা অত্যাধুনিক যুগের বাচ্চাদের লম্বা, ক্যালশিয়াম বৃদ্ধি, হাড় শক্ত, মাথার ব্রেন খুলে যাওয়াসহ শরীরের সব ধরনের চাহিদা পুরনের জন্য তাদের খাবার যুগে থাকেন। শুধু তাই নয় শিশু থেকে কিশোর তরুন-তরুনী যুবক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই শরীর সুস্থ সবল ও সুন্দর রাখার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ওই সব খাবার গ্রহণ থাকেন। একই কারণে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো অতিকষ্টে উর্পাজিত অর্থ দিয়ে খাদ্যের মধ্যে খাবার খেয়ে থাকে জীবন ধারনের জন্য বা বেঁচে থাকার জন্য অথচ এসব খাবারের মধ্য থেকে বেশির ভাগ খাবারি মানহীন-ভেজাল এবং জীবনের জন্য আত্মঘাতি প্রশ্ন থেকে যায় জীবনের জন্য খাদ্য নাকি খ্যাদ্যের জন্য জীবন? এবস গুরুতর ভেজার খাবার খেয়ে প্রতিটি মুহুর্তে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নানা শ্রেণী পেশা ও বয়সের মানুষ অসংখ্য, অজানা, অচেনা, জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এর জন্য দায়ী ঐসব খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনকরী প্রতিষ্ঠান। এক কথায় যারা নানা আঙ্গিকে ভেজাল খাবার দেশ ব্যাপি সরবরাহ করে চলেছে।

২ নম্বর সেন্ডিকেট রোগ পালন দাতা: দুই নম্বর সেন্ডিকেড হল ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান যারা নাকি রোগ কে লানন-পালন করে জিয়ে রাখা। কথা
ছিল রোগ হবে, মানুষ রোগী হবে চিকিৎসকের সুপরামর্শে উন্নত সেবার মাধ্যমে রোগ সেরে যাবে কিন্তু এটা তার পুরুটাই উল্টা। যদি কোন রকমে একজন মানুষ রোগে আক্রন্ত হয়ে রুগি হয় আর সুস্থতার লক্ষ্যে ডাক্তার বাবুর সরনাপন্ন হয় তবে আর কথাই নেই। কি হয়েছে বা হয়নি প্রথমে হাতে ধরিয়ে দিবে নানান পদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এরপর ৭ দিন পর আসবেন তারপর ১৫ দিন পর আসবেন এক কথায় ওই রোগি এখন ডাক্তার বাবুর কাছে রীজার্ভ যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ডাক্তার বাবু কে দর্শন দিতেই হবে। একটি বিষয় ভাবলে মাথা কাজ করেনা দেশে বর্তমানে ২৬০ টির মত এ্যালোপ্যথি মেডিসিন কোম্পানী নিয়মিত ওষুধ উৎপাদন করে চলেছে প্রায় ২৪০ কোম্পানী।

প্রতিটি কোম্পানীর স্ব-স্ব উৎপাদিত ওষুধ বাজার জাতের লক্ষ্যে নিয়োগ দিয়েছে যোগ্য দক্ষ ও কর্মঠ জনবল। প্রতিটি কোম্পানীর এই জনবল-বিক্রয় প্রতিনিধিগণ
প্রতিযোগিতা মুলক ওষুধ বিক্রি করে চলেছে। প্রত্যেকটি কোম্পানী প্রতিটি জনবলের ক্ষেত্রে টার্গেট আছে। প্রতিমাসে বিক্রির টার্গেট পূরণ করতেই হবে। জনগণ অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত হোক অথবা না হোক ওষুধ বিক্রয় টার্গেট পূরণ হতেই হবে। প্রতিটি কোম্পানীর ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি ডাক্তার ভিজিট করতেছে। ছলে-বলে কৌশলে যে কোন কিছুর বিনিময়ে ডাক্তারকে দিয়ে ওষুধ লেখাতেই হবে আর এজন্য কোন রোগী ডাক্তারের কাছে গেলে সেখান থেকে আর বেড়িয়ে আসতে পারেনা। অনেক ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানীর মধ্য থেকে কিছু সংখক কোম্পানী ভেজাল বা মানহীন ওষুধ তৈরী করে চলেছে।

এসব ওষুধ সেবনের ফলে রোগীরা সুস্থতায় ফিরে না এসে দিনের পর দিন নতুন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পরছে। ফলে ওষুধ আর ডাক্তার কেউই কিছু ছাড়ছে না। একটি বিষয়ে ভাবলে মাথা কাজ করেনা দেশ ব্যাপী ওষুধ কোম্পানী অসংখ্য ওষুধ কোম্পনী গাড়ি গাড়ি ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে। দেশ ব্যাপী কোম্পানীগুলোর ওষুধ পরিবহনকারী গাড়ি গুলো যে পরিমানে ওষুধ সরবরাহ করে চলেছে প্রতিদিন ভাবলে অবাক লাগে। মানুষ এগুলো খায় নাকি গায়ে মাখে? হাসপাতাল/ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে মনে হয় কেয়ামত শুরু হয়েছে। কাউকে ফিরে দেখার সুযোগ নাই রোগিরা সুস্থ দেওয়ার জন্য ছোটাছোটি করছে। ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি তার কম্পানির বাজার জাত করার জন্য ডাক্তার ভিজিট নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর ডাক্তার বাবু রোগির চাপদেখে একদিকে যেমন বগল বাজাচ্ছেন অন্যদিকে একটু দিশেহারাও বটে। চলে যাই সেন্ডিকেট নাম্বার ৩ ফার্মেসীতে: দেশে হাজার হাজার ওষুধ ফার্মেসীগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় দুনিয়ার সব ভির এখানে। এখন ওষুধ নিতে গেলেও সিরিয়াল লাগে কারণ একই সময়ে তিন কাজ চলছে।

একদিকে ফার্মেসী মালিক ও কর্মচারী রোগীর নিকট ওষুধ বিক্রি করতে ব্যাস্ত অন্যদিকে কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি অর্ডার কাটা নিয়ে ব্যাস্ত। পাশাপাশি মহুর্তের মধ্যেই কোম্পানীর ডেলিভেরি ম্যান ওষুধ নিয়ে হাজির। ফার্মেসীতে কর্মরত মালিক কর্মচারীর বেঁচা-কেনা ও পরামর্শের ধরণ দেখরে মনে সবাই মালিক সবাই কর্মচারী আবার সবাই ডাক্তার ও ফার্মাসিস্ট। রোগ এবং ওষুধ সম্পর্কে বেশি কোন ধারনা না থাকা সত্তেও তারা রোগীদেরকে অনুমান বা হাত আন্দাজ এ চিকিৎসা সেবা বা ওষুধ পত্র দেয়ার ফলে রোগী ভুল চিকিৎসায় আক্রান্ত হন। রোগতো সারেনা বরং নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হয় আর রোগীর জীবন হয়ে ওঠে ঝুকিপূর্ন। দেশের ফার্মেসীগুলোতে মেয়াদ উর্ত্তীন ওষুধের ছড়াছড়ি এর মুলকারণ হিসাবে জানা গেছে দেশে অনেক অখাদ্য বা মানহীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধের চাহিদা কম ডাক্তার সহজে লিখতে চায়না আবার লিখলেও পরিমানে কম ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিগণ জোর করে বাঁকিতে পর্যপ্ত পরিমাণ বিভিন্ন ভ্যারইটিস ওষুধ ফার্মেসী গুলিতে দিয়ে যায়। ধীর গতিতে বিক্রির কারণে ওষুধের মেয়াদ উর্ত্তীন্ন হয়ে যায়। কোম্পানীর প্রতিনিধি মেয়াদ উর্ত্তীন ওষুধগুলি ফেরত না নেয়ার কারণে অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী এগুলো সমানে বিক্রি করে চলেছে। যার ধকল পোহাতে হয় সাধারণ জনগণকে। যা কিনা জীবন মরনের সন্ধীক্ষন। ভেজাল ওষুধ বাজার থেকে সতভাগ তুলে নেওয়া হোক আর মানহীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হোক।

সর্বপরী ভেজাল খাদ্য-ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং মেয়াদ উর্ত্তীন ওষুধ বিক্রেতা চক্রসহ যারাই এইসব সেন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা জড়িত আইনীর মধ্য দিয়ে তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হোক এটাই প্রত্যাশা সকল নাগরিকের। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যায় অপরাধ দমনের বহুমাত্রিক কলা- কৌশলকে স্বাগত জানায় এবং পাশাপাশি আমি আশাবাদী খাদ্য ও ওষুধে ভেজালসহ দেশে দৃশ্যমান বহুমাত্রিক অপরাধ দমণ করা একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব।

You might also like

advertisement