জনগণকে একটুখানি রেহাই দেন

advertisement

সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই তবে গ্যাসের দাম বাড়াতে চাই না। গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে যদি আবার বিবেচনা করা যায়, জনগণকে একটুখানি রেহাই দেন। রেহাই দেওয়া উচিত কারণ অনেক জনগণ আছে, তারা এতো দাম দিয়ে গ্যাস কেনার সামর্থ্য নেই।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রওশন এরশাদ বলেন, আমি সেদিন শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়ন যদি চান, তাহলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে’। আমরা উন্নয়ন চাই তবে গ্যাসের দাম বাড়াতে চাই না। এটাই হলো আসল কথা। এটা আমার কথা না জনগণের কথা। যেদিন বাজেট পাস হলো সেদিন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। তিনি বলেন, সবার কাছ থেকে শুনলো গ্যাসের দাম বাড়ালে কি হবে না হবে। গণশুনাননির পরে কি হলো, গ্যাসের দাম বেড়ে গেলো। কিন্তু আমরা যখন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিলাম, তখন ভারত গ্যাসের দাম কমিয়ে দিলো। যে সিলিন্ডারে ঘরে রান্না করে, সেটির দাম ১শ টাকা কমিয়ে দেওয়া হলো। যদি এটাই হয় তাহলে আমাদের হঠাৎ দাম বাড়ল কেনো?

রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের সমুদ্রে যে গ্যাস আছে সেটা আমরা তুলি না কেনো? এখন যদি চেষ্টা করা না হয়, অনেক সময় লাগবে, দু-তিন বছর চলে যাবে, তবে আমরা কেনো এখই চেষ্টা করছি না? এখন না করলে পরে কখন করবো। আমার মনে হয়, গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে যদি আবার বিবেচনা করা যায়, জনগণকে একটুখানি রেহাই দেন। রেহাই দেওয়া উচিত কারণ অনেক জনগণ আছে, তারা এতো দাম দিয়ে গ্যাস কেনার সামর্থ নেই। তাই এটা বিবেচনা করার জন্য মাননীয় স্পিকার আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়কে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রওশন এরশাদ বলেন, এমপিওভুক্তি বঞ্চিত শিক্ষকরা আন্দোলন করছে। তারা বেতন পাচ্ছেন না। এই অসহায় শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাই।

বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে আমাদের ছেলেমেয়েরা অন্য রকম জগত তৈরি করছে। এর হাত থেকে যদি তাদেরকে বাঁচানো না যায় তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে তারা কীভাবে নেতৃত্ব দেবে। এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের রাস্তা খুঁজতে হবে। অনেক জায়গা আছে ফেসবুক নেই। তারা যদি সারারাত জেগে স্মার্ট ফোন দেখে। ঘুম নেই, লেখাপড়া নেই। একেকটার চেহারা কেমন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে দিনরাত পরিশ্রম করে তথ্য সরবরাহ করেন গণমাধ্যম কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উন্নয়নে কোনো সরকারি গুরুত্ব দেয় না। যদিও বর্তমান সরকারের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবেন।

রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের দেশে যখন আমরা বাজেট পাস করি তখন থাকে ভর বর্ষা। অর্থবছর পরিবর্তন করলে উন্নয়নে কাজে লাগবে। পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের জলবায়ুর সঙ্গে মিল রেখে অর্থ বছর পরিবর্তন করেছে। আপনারা যদি বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করেন। আমার মনে হয় অর্থবছর পরিবর্তন করতে পারলে আমাদের উন্নয়ন আরো ভালো হবে।

তিনি বলেন, ডাক্তার আছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ যন্ত্রপাতি আমাদের দেমে আছে। কিন্তু ডাক্তাররা রোগীদের সময় দেন না। ডাক্তাররা সময় দেন না বলে বেশিরভাগ মানুষ দেশের বাইরে চলে যান। এ সময় অবিলম্বে মেয়াদোর্ত্তীণ ওষুধ যেন বাজারে বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, খাদ্য ভেজাল এখনো বন্ধ হয়নি। ওষুধ আর খাদ্য মানুষের অনেক বেশি মৌলিক উপাদান। এই দুটি উপাদান ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, চলতেও পারে না। আমাদের ছোট ছোট শিশুরা যদি ভেজাল খাদ্য খায় তাহলে দেশ গড়ার কাজ করবে কীভাবে? বাচ্চাদের খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই বাচ্চারাই ভবিষ্যতে এই দেশকে নেতৃত্ব দেবে।

রওশন বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এই ধরণের শিশু নির্যাতন কেন গড়ে উঠেছে? বিশেষ করে স্কুলে-মাদ্রাসায় কোনো জায়গায় আমাদের বাচ্চারা সুরক্ষিত না, নিরাপদ না। যদি নিরাপদ না হয় তাহলে লেখাপড়া করবে কীভাবে? নুসরাতের মতো যদি জীবন দিতে হয় এটা দুঃখ জনক। আমাদের দেশে আইন আছে। আমি সরাসরি বলতে চাই, এদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। ইদানিং দেখা যাচ্ছে ধর্ষণ অনেক বেড়ে গেছে। কোনো জায়গাতে বাচ্চারা নিরাপদ না। এই ধরণের অবস্থা আগে ছিল না। এ সময় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া উচিত। মামলাগুলো ঝুলিয়ে না রেখে তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এরশাদের সুস্থতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

You might also like

advertisement