ম্যাচ জয়ের পর যা বললেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক

advertisement

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এরই সঙ্গে ২৭ বছর পর চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলেছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ২২ রানে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তাদের।

গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়তে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। এবার টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর গত আসরের সঙ্গে নিজেদের পারফরম্যান্সের তুলনার কথা বলেছেন ইংলিশ অধিনায়ক উইয়ন মরগান। গত বিশ্বকাপের পর চার বছরের নাটকীয় উন্নতির ফলেই তার দল বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে বলে মনে করেন ইংলিশ অধিনায়ক।

গতকাল এজবাস্টনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড। যেখানে ১৪ জুলাই ঐতিহাসিক লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।

এবার বিশ্বকাপের আসর বসেছে ইংল্যান্ডে। ঘরের আঙ্গিনায় এবার ফাইনাল জিতে বিশ্বকাপের শিরোপা খরা ঘূচানোর এর চেয়ে বড় সুযোগ আর হতে পারে না ইংলিশদের। তাই গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়ক মরগান বলেন, ‘এটা দারুণ একটি সুযোগ (রোববার লর্ডসে), সেটা খুবই বড় কিছু। ২০১৫’র বিশ্বকাপে আমরা কোথায় ছিলাম, এটা নাটকীয় উন্নতি। ড্রেসিংরুমের সবাই এই আনন্দের ভাগিদার। আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।’

ম্যাচ নিয়ে মরগান বলেন, ‘ওকস ঠান্ডা মাথার বোলার। আজ দুর্দান্ত বল করেছে। ওকস ও জোফরা বোলিং দুজনই দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আর ওপেনিংয়ে জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো দারুণ ছন্দে রয়েছে। ২০১৫ সালে যে অবস্থায় দল ছিল তার চেয়ে অনেক উন্নতি করেছি আমরা। এই সাফল্য পুরো দলের।’

২৭ বছর পর ফাইনালে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এরই সঙ্গে ২৭ বছর পর চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলেছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ২২ রানে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তাদের।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে আয়োজিত আজকের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। এরপর ইংল্যান্ডের বোলারদের তোপের মুখে এক ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ২২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ফিঞ্চ বাহিনীর বিপক্ষে বেশ বিধ্বংসী ছিলেন ক্রিস ওকস, জফরা আর্চার এবং আদিল রশিদ।

ওকস ৮ ওভারে ২০ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেছেন। ১০ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে সমান সংখ্যক উইকেট তুলে নিয়েছেন লেগ স্পিনার রশিদ। দারুণ বোলিং করেছেন ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত আর্চারও। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান গুনেছেন তিনি এবং নিয়েছেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

ইংল্যান্ডের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে স্টিভেন স্মিথ ছাড়া আর কেউই সুবিধা করতে পারেননি। স্মিথ ১১৯ বলে ৮৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দিয়েছেন। যেখানে ৬টি চার হাঁকিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান এসেছে ক্যারির ব্যাট থেকে। এছাড়াও ২৯ রান করেছেন মিচেল স্টার্ক। বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় স্বল্প পুঁজি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।

অজিদের ছুঁড়ে দেয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুই ইংল্যান্ড ওপেনার জেসন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো। মিচেল স্টার্কের বলে ৩৪ রান করে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে বেয়ারস্টো ফিরলে এই জুটি ভাঙ্গে। এরপর ১৪৭ রানের মাথায় দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা রয়কে (৮৫) উইকেট রক্ষক ক্যারির হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান প্যাট কামিন্স।

জো রুট এবং অধিনায়ক ইয়ন মরগানের ব্যাটে পরবর্তীতে অবশ্য বিপদে পড়তে হয়নি ইংল্যান্ডকে। এই দুই ব্যাটসম্যান অপরাজিত থেকে ১০৭ বল হাতে রেখে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। দুই জনই ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৩ রান নিয়ে। আগামী ১৪ জুলাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে ফাইনাল খেলবে ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ২২৩/১০ (৪৯ ওভার) (স্মিথ- ৮৫, ক্যারি-৪৬; ওকস-৩/৪২, রশিদ-৩/৫৪)

ইংল্যান্ড: ২২৬/২ (৩২.১ ওভার) (রয়- ৮৫, বেয়ারস্টো-৩৪; কামিন্স- ১/৩৪, স্টার্ক- ১/৬৪)

You might also like

advertisement