সালমার স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ পুষ্মীর

advertisement

ক্লোজআপ ওয়ান তারকা’ সঙ্গীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার দ্বিতীয় স্বামী সানাউল্লাহ নূরী আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন।

২০১৬ সালের ৩ জুন তাসনিয়া মুনিয়াত পুষ্মীকে বিয়ে করেছিলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে সানাউল্লাহ নূরী।

পুষ্মীর অভিযোগ, সানাউল্লাহ তার সঙ্গে প্রতারণা করে সালমাকে বিয়ে করেছেন। এছাড়াও তাকে শারীরিক নির্যাতন ও তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

নিজেকে বেসরকারি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্রী পরিচয় দেওয়া পুষ্মী বলেন, ২০১৪ সালের ০৩ জুন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে সানাউল্লাহ নূরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই তার ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালান সানাউল্লাহ নূরী।

‘এমনকি আমার সঙ্গে প্রতারণাও করেছেন তিনি। বিষয়টি আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো তারাও আমার প্রতি একই মানসিকতা দেখাতে থাকেন।’

স্বামী সানাউল্লাহ নূরীকে টাকা-পয়সা দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে সানাউল্লাহ নূরী লন্ডনে যাওয়ার কথা বললে আমার মা চাকরির বেতনের বিপরীতে রূপালী ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেন। এরপর সাড়ে ছয় লাখ টাকা আমার স্বামী নূরীর ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে এবং বাকি সাড়ে তিন লাখ টাকা তার বাবা-মাকে দেন।

‘কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার যাওয়া বাতিল হয়ে যায়। পরে ওই টাকা দিয়ে তিনি ব্যবসা করতে চান এবং ব্যবসার জন্য আরও ১০ লাখ টাকার জন্য আমায় চাপ দিতে থাকেন। অথচ আমার বাবা-মার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। আর তখন থেকেই তারা আমার ওপর নির্যাতন চালানো শুরু করেন।’

পুষ্মী বলেন, ‘নানা ঘটনার পরও সানাউল্লাহ নূরী ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ড যান। ওখানে যাবার পর কয়েকদিন যোগাযোগ করলেও হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।’

‘এক পর্যায়ে নির্যাতন ও মারধরের ঘটনায় ২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার মা বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন সানাউল্লাহ নূরীর বিরুদ্ধে। এরপর সানাউল্লাহ লন্ডন থেকে ফিরে ক্লোজআপ তারকা কণ্ঠশিল্পী সালমাকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই মামলায় সানাউল্লাহ কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি।’

আদালতে মামলা ও নির্যাতন এবং প্রতারণার বিষয়টি মুখ খোলায় স্বামী পরিবারের লোকজন নানা হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই তরুণী।

তিনি বলেন, আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি বিচার চাই।

সংবাদ সম্মেলনে পুষ্মীর বাবা অধ্যাপক এম আকতার আলম, মা দিলারা খানম, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, আলী আশরাফ আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।

You might also like

advertisement