সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

advertisement

টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও বানভাসী মানুষ বলছেন ভিন্ন কথা। সোমবার থেকে টানা বৃষ্টির সঙ্গে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে। জেলার ১১টির মধ্যে ৫টি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা বলেন, চারদিন ধরে চুলায় ভাত রান্না করতে পারছি না। বাচ্চা-কাচ্চা, গরু-বাছুড় নিয়ে বিপদে আছি।

অন্যদিকে সরকারি সহায়তা না পাওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বানভাসী মানুষের। তারা বলেন, কেউ আমাদের দেখতে আসেন নি, খবরও নেন নি।

তবে পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেয়ার কথা জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, জেলার সবকটি উপজেলায় দুর্গতদের মধ্যে ৩০০ মেট্রিকটন চাল, ৩ হাজার ৭৬৫ প্যাকেট শুকনো খাবার ও আড়াই লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে গত বুধবার থেকে সুনামগঞ্জের সদর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। গতকালও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বেড়ে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। অন্যদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত তিন-চারদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাই, কংসসহ সবক’টি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। গতকাল বেলা ৩টায় সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপত্সীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টিপাত ও ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া।

পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক এবং সিলেটের সারী-গোয়াইনঘাট, সিলেট-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। দুই জেলায় লক্ষাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে জেলা প্রশাসন।

বাড়িঘর-রাস্তাঘাটের মতো এ ছয় উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উঠে গেছে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরেও।

গতকাল বিকাল পর্যন্ত ১৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে ধর্মপাশায় ৫৯টি, তাহিরপুরে ১৯, বিশ্বম্ভরপুরে ২৭, জামালগঞ্জে ৩০, সদরে ২২, দোয়ারাবাজারে ১৮ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের তিনটি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

You might also like

advertisement